Home
Contact
 
 
 
 
 
 
 
 
Home » Noble Footsteps » Swami Vivekananda » পানিহাটি ও বিবেকানন্দ
 
স্বামী বিবেকানন্দ ও পানিহাটি
 
 
 
স্বামী বিবেকানন্দের সঙ্গে পানিহাটির যোগাযোগ সম্বন্ধে ঐতিহাসিক তথ্য শ্রদ্ধার সাথে স্মরনযোগ্য। শ্রী রামকৃষ্ণের সঙ্গে ১৮৮৫ খ্রীষ্টাব্দে জুন মাসে মহৎসবে যোগদান করেছিলেন। তখন অবশ্য নরেন্দ্রনাথ হিসাবে এসেছিলেন অন্য ২৪ জন শ্রী রামকৃষ্ণ পার্শদের সাথে। এক সময় গোবিন্দ হোম বাগানটি বেলুড় মঠ স্থাপনের কথা হয়েছিল। ১৮৯৮ খ্রীষ্টাব্দে স্বামী বিবেকানন্দ ঐ বাগানটি পরিদর্শনে আসেন নৌকাযোগে কতিপয় শিষ্যগনের সাথে স্বামী বিবেকানন্দের মামার বাড়ির সম্পর্কে পানিহাটি মিত্র পাড়ায় সাতকড়ি মিত্রের বাড়ি কয়েকবার আসেন বলে যানা গেছে। গোবিন্দ হোম উদ্যানটি বেশি পরিচিত রবীন্দ্র নাথের সহিত। কিন্তু বিবেকানন্দের পদধূলিও এই উদ্যানে ঐতিহাসিক পরিচয় বহন করে বিশেষত বেলুড় মঠ স্থাপনের পরিকল্পনায় গন্য হবার জন্য।

এই দুই স্থান গঙ্গা তীরবর্তী এবং মর্যাদা যোগ্য। গঙ্গা প্রকল্পের মাধ্যমে / পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে আকর্ষনীয়।
 
     
  স্বামীজীর বাণী ও রচনা (১৮৯৮)  
     
  মঠ-বাটী নির্মাণ হইয়াছে, সামান্য একটু-আধটু যাহা বাকি আছে, স্বামীজীর অভিমতে স্বামী বিঞ্জানানন্দ তাহা শেষ করিয়াছেন। স্বামীজির শরীর তত ভাল নয় তাই ডাক্তারগন তাঁহাকে নৌকায় করিয়া গঙ্গাবক্ষে বেড়াইতে বলিয়াছেন। আজ রবিবার। শিষ্য মঠে আসিয়াছে এবং আহারান্তে স্বামীজীর ঘরে বসিয়া স্বামীজীর সহিত কথোপকথন করিতেছে।

বেলা প্রায় অবসান। স্বামীজী গঙ্গাবক্ষে ভ্রমণোপযোগী সাজ করিয়া নীচে নামিলেন এবং মঠের জমিতে যাইয়া পূর্বদিকে এখন যেখানে পোস্তা গাঁথা হইয়াছে, সেখানে পদচারণা করিয়া কিছুক্ষণ বেড়াইতে লাগিলেন। পরে বজরাখানি ঘাটে আনা হইলে স্বামী নির্ভয়ানন্দ, স্বামী নিত্যানন্দ, ও শিষ্যকে সঙ্গে লইয়া নৌকায় উঠিলেন।

নৌকায় উঠিয়া স্বামীজী ছাতে বসিলে শিষ্য তাহার পাদমূলে উপবেশন করিলেন। গঙ্গার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র তরঙ্গগুলি নৌকার তলদেশে প্রতিহত হইয়া কলকল শব্দ করিতেছে, মৃদুল মলয়ানিল প্রবাহিত হইতেছে, আকাশের পশ্চিমদিক এখনও সন্ধ্যার রক্তিম রাগে রঞ্জিত হয় নাই, ভগবান মরীচিমালী অস্ত যাইতে এখনও আধঘন্টা বাকি। নৌকা উত্তরদিকে চলিয়াছে। স্বামীজীর মুখে প্রফুল্লতা, নয়নে কোমলতা, কথায় উদাসীনতা ! সে এক ভাবপূর্ণ রূপ – বুঝানো অসম্ভব!

এইবার দক্ষিণেশ্বর ছাড়াইয়া নৌকা অনুকূল বায়ুবশে আরও উত্তরে অগ্রসর হইতেছে। দক্ষিণেশ্বর কালীবাড়ি দেখিয়া শিষ্য ও অপর সন্ন্যাসিদ্বয় প্রণাম করিল। স্বামীজী কিন্তু কি এক গভীর ভাবে আত্মহারা হইয়া এলোথেলো ভাবে বসিয়া রহিলেন! শিষ্য ও সন্ন্যাসিরা পরস্পরে দক্ষিণেশ্বরের কত কথা বলিতে লাগিল,  সে-সকল কথা যেন তাঁহার কর্ণে প্রবিষ্টই হইল না। দেখিতে দেখিতে নৌকা পেনেটির দিকে অগ্রসর হইল। পেনেটিতে গোবিন্দকুমার চৌধুরীর বাগানবাটীর ঘাটে নৌকা কিছুক্ষণের জন্য বাঁধা হইল। এই বাগানখানিই ইতঃপূর্বে একবার মঠের জন্য ভাড়া করিবার প্রস্তাব হইয়াছিল। স্বামীজী অবতরণ করিয়া বাগান ও বাটী বিশেষরূপে পর্যবেক্ষণ করিয়া বলিলেন, ‘বাগানটি বেশ, কিন্তু কলকাতা থেকে অনেক দূর; ঠাকুরের শিষ্য (ভক্ত) দের যেতে আসতে কষ্ট হত; এখানে মঠ যে হয়নি, তা ভালই হয়েছে।‘

এইবার নৌকা আবার মঠের দিকে চলিল এবং প্রায় একঘন্টা কাল নৈশ অন্ধকার ভেদ করিয়া চলিতে চলিতে মঠে আসিয়া উপস্থিত হইল।
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Home | Emergency | Tender | Services | Train Time Table | Contact Us