Home
Contact
 
 
 
 
 
 
 
 
Noble Footsteps » Mahatma Gandhi » মহৎসবতলা ও মহাত্মাগান্ধী
 
মহৎসবতলা ও মহাত্মাগান্ধী
 
 
 
গান্ধীজির সঙ্গেও ফণীন্দ্রনাথের যোগাযোগ ছিল অত্যন্ত ঘনিষ্ট। ১৯২৫ সালে গান্ধীজির পূর্ববঙ্গ সফরে তিনি তার সঙ্গী সাংবাদিকমধদের্যে ছিলেন অন্যতম। তিনি গুজরাটি জানতেন বলে হেমেন্দ্রপ্রসাদের নির্দেশে গান্ধীজিকে সাহায্য করতেন। সোদপুর খাদি আশ্রমে গান্ধীজী এলেই ফণীন্দ্রনাথ তাঁর সঙ্গে নিয়মিত দেখা করতেন। তখন গান্ধীজী পানিহাটিতে শ্রীচৈতন্য স্মৃতিবিজরিত স্থান পরিদর্শন করেন। সেকথা ফণীন্দ্রনাথ একটি রচনাতে উল্লেখ করেন। “পরিণত বয়সে সুদীর্ঘ কয়েকবৎসর কলিকাতায় আসিলে তিনি শহরে না থাকিয়া শহর হইতে দূরে সোদপুর খাদি প্রতিষ্ঠানে আসিয়া বাস করিতেন। তাহার পূর্বে কারাদন্ড ভোগ করিয়া তাহার দেহ রোগজীর্ণ হইয়াছিল। তিনি ঔষধ হিসাবে জল, মাটি ও বাতাস ব্যবহার করা পছন্দ করিতেন। সোদপুরে সকালে রৌদ্রে পেটে, বুকে ও মাথায় মাটি মাখিয়া তিনি যখন শুইয়া থাকিতেন সেসময় তাঁহার ভক্তরা তাঁহার নিকটে বসিয়া গীতা পাঠ করিয়া তাঁহাকে শুনাইত। সকলেই জানেন, অন্যান্য নেতাদের মত গীতা মহাত্মা গান্ধীরও প্রিয় গ্রন্থ ছিল। ........ তাঁহার ধর্মপ্রাণতার কথা এখানে উল্লেখযোগ্য। মহাপ্রয়ানের কয়েক বৎসর পূর্বে মহাত্মা গান্ধী যখন সোদপুর খাদি আশ্রমে বসবাস করিতেছিলেন, সে সময় ব্যারিষ্টার ও কবি সুরেশচন্দ্র বিশ্বাস মহাশয় গান্ধীজীর উদ্দেশ্যে একটি কবিতা লিখিয়াছিলেন। তিনি গান্ধীজীকে অরো লিখিয়াছিলেন যে, সোদপুর হইতে অতি নিকটে পানিহাটিতে গঙ্গাতীরে এক তীর্থস্থান আছে। প্রায় পাঁচশত বৎসর পূর্বে পতিতপাবন শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু সতথানে আসিয়া একদিন রাঘব পন্ডিতের গৃহে অতিথি হইয়াছিলেন। গান্ধীজী যেন ঐ তীর্থস্থান একবার দর্শন করেন। ফনীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়কে খবর দেওয়া হইল এবং ফনীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় পানিহাটি সম্বন্ধে পুস্তকসমূহ সঙ্গে লইয়া সোদপুর আশ্রমে গান্ধীজীর সঙ্গে দেখা করেন। গান্ধীজী সকল কথা শুনিয়া পরবর্তী একটা দিন স্থির করিয়া ঐদিন সকাল সাতটায় তিনি পানিহাটি তীর্থ দেখিতে যাইবেন বলিলেন। ফনীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় সানন্দে ঐ সংবাদ সংবাদপত্র সমূহে প্রকাশ করেন এবং পানিহাটি মিউনিসিপ্যালিটির চেয়ারম্যান সুশীলকৃষ্ণ ঘোষকে সেইজন্য ব্যবস্থা করিতে অনুরোধ করেন। সুশীলকৃষ্ণ সংবাদটি ঢোল পিটাইয়া প্রকাশ করেন। ফলে সেদিন সোদপুর হইতে পানিহাটি বটতলা যাইবার পথের দুই ধারের বাড়ীগুলি পুস্প-পতাকার দ্বারা সাজানো হইয়াছিল। ফনীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় নির্দিষ্ট দিনে সকাল সাতটার পূর্বে একখানি বড় মোটর গাড়ি লইয়া সোদপুরে গমন করেন। মহাত্মা গান্ধীকে খবর দিতেই তিনিও বাইরে আসেন। কিন্তু মোটর গাড়ীতে উঠিবার কথা বলিলে তিনি বলেন, ‘তুমি তো বলিয়াছ সোদপুর হইতে পানিহাটির দূরত্ব এক মাইল। আমি তীর্থস্থানে যাইব, পায়ে হাটিয়া যাইবার শক্তি আমার আছে। কাজেই আমি গাড়ীতে যাইব না ’। তখন মাঘ মাসের প্রথম দিক – সেবার শীতও বেশি পড়িয়াছিল, তথাপি গান্ধীজী সকলের সহিত পায়ে হাটিয়া গঙ্গাতীরে বটতলায় গমন করিয়াছিলেন এবং সেখানে একঘন্টা থাকিয়া পদব্রজে সোদপুরে ফিরিয়া আসিয়াছিলেন। তীর্থস্থানকে তিনি কত শ্রদ্ধা করিতেন তাহা তাহার জীবনের এ ঘটনা হইতে ভাল বোঝা যাইবে।“১৯৪৬ সালের ১৮ই জানুয়ারী গান্ধীজী পদব্রজে পানিহাটির গ্রাম ও শ্রীচৈতন্যের স্মৃতি বিজরিত বিভিন্ন স্থান পরিভ্রমণ করেন। এ প্রসঙ্গে ‘ভারতবর্ষ’ পত্রিকাতে (২য় খন্ড, ৩য় সংখ্যা) সচিত্র প্রতিবেদন ছাপা হয়েছিল।
 
     
     
 
 
 
 
 
Gandhiji at Panihati Mahotsob Tala 18th Jan 1946
 
 
 
Home | Emergency | Tender | Services | Train Time Table | Contact Us