Home
Contact
 
 
 
 
 
 
 
 
Home » Noble Footsteps » Sri Ramkrishna » পানিহাটি সম্পর্কে রামকৃষ্ণের ঐতিহাসিক মতবাদ
 
পানিহাটি সম্পর্কে রামকৃষ্ণের ঐতিহাসিক মতবাদ
 
শ্রী রামকৃষ্ণ দেব পানিহাটিতে শ্রী চৈতন্য প্রবর্তিত চিড়া উৎসবে প্রায় প্রতি বৎসর ভক্ত বৃন্দসহ যোগদান করিতেন।  পানিহাটিকে শ্রী রামকৃষ্ণ মহাতীর্থ মনে করতেন, যাহা প্রত্যেক পানিহাটিবাসীর কাছে একটি গৌরব। এই প্রসঙ্গে শ্রী রামকৃষ্ণ কথামৃতে একাদশ অধ্যায়ের দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে। ১৮৮৩ খ্রীষ্টাব্দে ৯ই ডিসেম্বর রবিবার পঞ্চবটীতে শ্রী রামকৃষ্ণ ও মাষ্টার (মহেন্দ্র গুপ্ত-শ্রীম) এর কথপ কথন, শ্রী রামকৃষ্ণর এই ভাব প্রকাশিত হয়েছে। এমনকি দক্ষিণেশ্বর পানিহাটি (পেনেটি) র মত মহাতীর্থ হওয়ার আকাঙ্খা প্রকাশ পেয়েছে।
 
..পূর্বকথা-অদ্ভূত মূর্তি দর্শন বটগাছের ডাল
 
শ্রীরামকৃষ্ণ (মাষ্টারের প্রতি)-দেখ, একদিন দেখি-কালীঘর থেকে পঞ্চবটী পর্যন্ত এক অদ্ভূত মূর্তি। এ তোমার বিশ্বাস হয়?

মাষ্টার অবাক হইয়া রহিলেন।

তিনি পঞ্চবটীর শাখা হইতে ২/১ টি পাতা পকেটে রাখিতেছেন।

শ্রীরামকৃষ্ণ-এই ডাল পড়ে গেছে, দেখছ; এর নীচে বসতাম ।

মাষ্টার – আমি আর একটি কচি ডাল ভাঙ্গে নিয়ে গেছি- বাড়িতে রেখে দিয়েছি।

শ্রীরামকৃষ্ণ (সহাস্যে)- কেন?

মাষ্টার- দেখলে আহ্লাদ হয়। সব চুকে গেলে এই স্থান মহাতীর্থ হবে।

শ্রীরামকৃষ্ণ (সহাস্যে)-কি রকম তীর্থ ? কি পেনেটীর মত?
পেনেটীতে মহা সমারোহ করিয়া রাঘব পন্ডিতের মহোৎসব হয়। ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ প্রায় প্রতি বৎসর এই মহোৎসব দেখিতে গিয়া থাকেন ও সংকীর্ত্তন মধ্যে প্রেমানন্দে নৃত্য করেন, যেন শ্রীগৌরাঙ্গ ভক্তের ডাক শুনিয়া স্থির থাকিতে না পারিয়া, নিজে আসিয়া সংকীর্ত্তন মধ্যে প্রেমমূর্ত্তি দেখাইতেছেন।
 
শ্রী রামকৃষ্ণ পেনেটির মহোৎসবে রাখাল, রাম, মাস্টার প্রভৃতি ভক্ত সংগে
 
ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ পেনেটীর মহোৎসব-ক্ষেত্রে বহুলোকসমাকীর্ণ রাজপথে সংকীর্ত্তনের দলের সঙ্গে নৃত্য করিতেন। ১৮ই জুন ১৮৮৩(জৈষ্ঠ্য শুক্লা ত্রয়োদশী তিথি) বেলা একটা বাজিতেছিল। সংকীর্ত্তন মধ্যে ঠাকুরকে দর্শণ করিবার জন্য চতুর্দিকে লোক কাতার দিয়া দাড়াইয়া ছিল। ঠাকুর প্রেমে মাতোয়ারা হইয়া নাচিতেছিলেন, কেহ কেহ ভাবিতেছিলেন শ্রী গৌরাঙ্গ কি আবার প্রকট হইলেন! চতুর্দিকে হরিধ্বনি সমুদ্রকল্লোলের মত বাড়িতেছে। চতুর্দিক হইতে পুস্প বৃষ্টি ও হরির লুট পড়িতেছিল। নবদ্বীপ গোস্বামী সংকীর্ত্তন করিতে করিতে রাঘব-মন্দিরাভিমুখে যাইতেছিলেন। এমন সময় ঠাকুর কোথা হইতে তীর বেগে আসিয়া সংকীর্ত্তন দলের মধ্যে নৃত্য করিতেছেন।

এই মহোৎসব রাঘব পন্ডিতের চিঁড়ার মহোৎসব নামে খ্যাত। শুক্লাপক্ষের ত্রয়োদশী তিথিতে প্রতিবর্ষে হইয়া থাকে। দাস রঘুনাথ প্রথমে এই মহোৎসব করেন। রাঘব পন্ডিত তাহার পরে বর্ষে বর্ষে এই মহোৎসব পালন করিতেছিলেন। দাস রঘুনাথকে নিত্যানন্দ বলিয়াছিলেন, ‘ওরে চোরা তুই বাড়ী থেকে কেবল পালিয়ে পালিয়ে আসিস্ , আর চুরি করে প্রেম আস্বাদ করিস্ – আমরা কেউ জানতে পারি না! আজ তোকে দন্ড দিব, তুই চিঁড়ার মহোৎসব করে ভক্তদের সেবা কর্’।

ঠাকুর প্রতি বৎসরই প্রায় আসিতেন।রাম সকালে কলিকাতা হইতে মাষ্টারের সহিত দক্ষিণেশ্বরে আসিয়াছিলেন। সেইখানে আসিয়া ঠাকুরকে দর্শণ ও প্রণামানন্তর উত্তরের বারান্দায় আসিয়া প্রসাদ পাইলেন। রাম কলিকাতা হইতে যে গাড়ীতে আসিয়াছিলেন, সেই গাড়ী করিয়া ঠাকুরকে পেনেটীতে আনা হইল। সেই গাড়ীতে রাখাল, মাষ্টার, রাম, ভবনাথ, আরও দু-একটি ভক্ত – তাহার মধ্যে একজন ছাদে বসিয়াছিলেন।
 
পেনেটী মহোৎসবে শ্রীরামকৃষ্ণের মহাভাব
 

পেনেটীর মহোৎসব-ক্ষেত্রে গাড়ী পৌঁছিবামাত্র রাম প্রভৃতি ভক্তেরা দেখিয়া অবাক হইলেন – ঠাকুর গাড়ীতে এই আনন্দ করিতেছিলেন, হঠাৎ একাকী নামিয়া তীরের ন্যায় ছুটিতেছেন! তাঁহারা অনেক খুঁজিতে খুঁজিতে দেখিলেন যে নবদ্বীপ গোস্বামীর সংকীর্ত্তনের দলের মধ্যে ঠাকুর নৃত্য করিতেছেন ও মাঝে মাঝে সমাধিস্থ হইতেছেন। পাছে পড়িয়া যান শ্রীযুক্ত নবদ্বীপ গোস্বামী সমাধিস্থ দেখিয়া তাঁহাকে অতি যত্নে ধারণ করিতেছেন। আর চতুর্দিকের ভক্তেরা হরিধ্বনি করিয়া তাঁহার চরণে পুস্প ও বাতাসা নিক্ষেপ করিতেছেন ও একবার দর্শন করিবার জন্য ঠেলাঠেলি করিতেছেন।

ঠাকুর অর্ধবাহ্যদশায় নৃত্য করিতেছেন। বাহ্যদশায় নাম ধরিলেন –

যাদের হরি বলিতে নয়ন ঝরে, ঐ তারা তারা দুভাই এসেছে রে ।

যারা আপনি নেচে জগৎ নাচায়, তারা তারা দুভাই এসেছে রে !

(যারা অপনি কেঁদে জগৎ কাঁদায়) (যারা মার খেয়ে প্রেম যাচে)

ঠাকুরের সঙ্গে সকলে উন্মত্ত হইয়া নাচিতেছেন, আর বোধ করিতেছেন, গৌর – নিতাই আমাদের সাক্ষাতে নাচিতেছেন।

ঠাকুর আবার গান ধরিলেন –

নদে টলমল টলমল করে – গৌর প্রেমের হিল্লোলে রে। সংকীর্ত্তনতরঙ্গ রাঘব মন্দিরের অভিমুখে অগ্রসর হইতেছে। সেখানে পরিক্রমন ও নৃত্য করিয়া ও শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণ বিগ্রহের সম্মুখে প্রণাম করিয়া, গঙ্গাকূলে বাবুদের প্রতিষ্ঠিত শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণের বাড়ীর দিকে এই তরঙ্গায়িত জনসঙ্ঘ অগ্রসর হইতেছে।

 
শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণের আঙ্গিনা মধ্যে নৃত্য
 
ঠাকুর শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণের আঙ্গিনায় আবার নৃত্য করিতেছেন। কীর্ত্তনানন্দে গর্গরা মাতোয়ারা। মাঝে মাঝে সমাধিস্থ হইতেছেন। আর চতুর্দিক হইতে পুস্প ও বাতাসা চরণতলে পড়িতেছে। হরিনামের রোল আঙ্গিনার ভিতর মূহুমূর্হু হইতেছে। সেই ধ্বনি রাজপথে পৌঁছিয়া সহস্র কন্ঠে প্রতিধ্বনি হইতে লাগিল। ভাগীরথীবক্ষে যে সকল নৌকা যাতায়াত করিতেছিল তাহাদের আরোহীগণ অবাক্ হইয়া এই সমুদ্রকল্লোলের ন্যায় হরিধ্বনি শুনিতে লাগিল ও নিজেরাও ‘হরিবোল’ ‘হরিবোল’ বলিতে লাগিল।

পেনেটীর মহোৎসবে সমবেত সহস্র নরনারী ভাবিতেছে, এই মহাপুরুষের ভিতর নিশ্চয়ই শ্রীগৌরাঙ্গের আবির্ভাব হইয়াছে। দুই একজন ভাবিতেছে ইনিই বা সাক্ষাৎ সেই শ্রীগৌরাঙ্গ।

ক্ষুদ্র আঙ্গিনায় বহুলোক একত্রিত হইয়াছে। ভক্তেরা অতি সন্তর্পণে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণকে বাহিরে আনিলেন।
 
 
 
Ramakrishna at Panihati
Ramakrishna on Panihati
Panihati - a pious place
 
 
পানিহাটি সম্পর্কে রামকৃষ্ণের ঐতিহাসিক মতবাদ
মণিমোহন  সেনের  বৈঠক খানায় ঠাকুরের  আবির্ভাব
১৮৮৩, ৯ই ডিসেম্বর পানিহাটিকে শ্রী রামকৃষ্ণের মহাতীর্থ ধারণা - শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ কথামৃত পৃষ্ঠা - ২৬৬
Home | Emergency | Tender | Services | Train Time Table | Contact Us